রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ও উৎসবমুখর পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একইসঙ্গে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর এসব পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রচারণায় ইতিবাচক পরিবেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা দেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। ড. ইউনূস বলেছেন, “সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা চলছে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, প্রার্থীরা একে অপরের প্রতি কোনো রকম কটূক্তি বা আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার নারীরা অত্যন্ত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নিরাপত্তার মহাপরিকল্পনা
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাকে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সরকার। প্রেস সচিব জানান, ভোটকে নিছিদ্র নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র সরাসরি গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় থাকবে।
পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকতে নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে রয়েছে:
সশস্ত্র বাহিনী: ১ লাখ ৮ হাজার ৮৫ জন (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী)।
বিজিবি: ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন (১,২১০ প্লাটুন)।
পুলিশ: ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্য (১১ ফেব্রুয়ারি থেকে)।
কাল থেকে মোতায়েন শুরু
নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষায় আগামীকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই মাঠ পর্যায়ে আনসার বাহিনী মোতায়েন শুরু হচ্ছে। আর ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রযুক্তি ও সুরক্ষার সমন্বয়
প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরও জানান, এবার ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ (Election Security App) ব্যবহার করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠের যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা তথ্য দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর, যেখানে পুরো পরিবার নিয়ে ভোটাররা নিশ্চিন্তে ভোট উৎসবে যোগ দিতে পারবেন।